চুলের যত্ন

শীতের চুলের সাধারণ সমস্যা এবং সমাধান

চুলের যত্নের উপায়, বড় চুলের যত্ন, চুলের যত্ন, বাড়িতে বসে চুলের যত্ন, রাফ চুলের যত্ন, রুখ চুলের যত্ন, শীতে চুলের যত্ন কিভাবে নিব?, শীতকালে চুলের পাঁচটি সমস্যা ও তার সমাধান, Common winter hair problems and solution

নিস্তেজ চুল থেকে খুশকি এবং ফ্লাইওয়ে থেকে বিভক্ত প্রান্ত পর্যন্ত, শীত আপনার চুলের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ঋতু হতে পারে। কেন? হিউমিডিফায়ার, হিটার এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমরা যে সব জিনিস ব্যবহার করি তা মুলত আমাদের উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে ; তারা আমাদের তাৎক্ষণিক আশপাশ থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয় এর ফলে আমাদের ত্বক বা চুল শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় এক সময় চুলের সমস্যা হিসেবে রুপ নেয়।

লম্বা চুল নিয়ে শীতের সময় আপনাকে যেন বাজে সময় পার করতে না হয় , শে জন্য আমরা শীতের সময় যেসব চুলের সমস্যার মুখোমুখি হই এবং তাদের সমাধানগুলি তুলে ধরেছি:

শীতের সাধারণ চুলের সমস্যা ও সমাধান-

*শুষ্ক এবং ঝলসানো মাথার ত্বক

একটি শুষ্ক মাথার ত্বক শীতকালে বেশি প্রচলিত হতে পারে এবং প্রায়ই ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ছোট সাদা ফ্লেক্স দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। আপনার চুলকে শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যকর করার জন্য, আপনার মাথার ত্বককে সঠিকভাবে পুষ্ট করতে হবে। যদি আপনার মাথার ত্বক শুস্ক হয়, চুলের প্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত, খুশকি, ত্বকের পানিশূন্যতা এবং ফ্লেকি ও চুলের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে ফলস্বরূপ, আপনি চুল হারাতে পারেন।

আপনার মাথার ত্বকের যত্ন নিতে, আপনার মাথার ত্বকে জলপাই তেল বা নারকেল তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। মাথার ত্বকে জোরালোভাবে ঘষবেন না, আপনার আঙুলের সাহায্যে আপনার মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। ঠান্ডা পানি নয়, হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। গরম জলের স্নান আপনার মাথার আর্দ্রতা কেড়ে নেবে এবং এটি আরও শুষ্ক করে তুলবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনার চুল আর্দ্র রাখার জন্য শ্যাম্পু করার পর লেভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করা।

*ঝাঁকড়া চুল

আপনাদের যাদের লম্বা চুল আছে তারা ঠান্ডায় বাইরে যাওয়ার আগে বাড়িতে মাথার তালু বিভিন্ন ভাবে শুকিয়ে নিতে পছন্দ করতে পারেন। ফলস্বরূপ, আপনি প্রায়ই ব্লো ড্রায়ার ব্যবহার করেন। চুলের উপর তাপের ব্যবহার বৃদ্ধি পৃথক চুলের ফলিকলকে দুর্বল করতে পারে, যার ফলে চুল শুকিয়ে যায় এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। যখন আপনি আবহাওয়ার সাথে এটি একত্রিত করেন, তখন চুল শুষ্ক এবং ঝাঁঝরা হয়ে যেতে পারে এবং এটি দেখতে এবং অস্বাস্থ্যকর হতে পারে।

এটি রোধ করার জন্য, হেয়ার ড্রায়ার এবং অন্য কোন উত্তপ্ত স্টাইলিং টুলের ব্যবহার সর্বনিম্ন রাখার চেষ্টা করুন এবং আপনার চুলকে প্রাকৃতিকভাবে শুকানোর সময় দিন যাতে এটি তার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি ধারণ করতে সক্ষম হয়। এমনকি যদি আপনাকে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে হয় তবে এটি আপনার মাথার ত্বক থেকে কমপক্ষে 6-ইঞ্চি দূরে রাখার চেষ্টা করুন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করার আগে তোয়ালে শুকিয়ে নিন যাতে আপনার চুল আর্দ্রতার সাথে থাকে এবং ছিঁড়ে না যায়।

নিষ্প্রাণ চুল

শুষ্ক, ঠান্ডা শীতের প্রভাবগুলি আপনার চুলের রঙকেও প্রভাবিত করতে পারে, এর ফলে আপনার চুল লম্বা না হয়ে বরং নিস্তেজ হয়ে যায়। চুলকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং উজ্জ্বলতা যোগ করতে চুলের জন্য কিছু পণ্য ব্যবহার (আপনি আপনার চুল কালয়ার ব্যবহার করতে পারেন ) করে তা প্রতিরোধ করতে পারেন।

চুল ধুতে হবে নিয়মিত

ঠান্ডার দিনে গোসল করার একধরনের ভীতি দেখা যায় অনেকের মধ্যে। গোসলের জন্য শরীরে গরম পানি ব্যবহার করা হলেও মাথায় গরম পানি ব্যবহার করা যায় না। এ জন্য অনেকে গোসলের সময় চুল ভেজান না। ফলে শ্যাম্পুও করা হয় না নিয়মিত। শাহিনা আফরিনের মতে, এটি একেবারেই করা উচিত নয়। বরং এ সময় বাইরে অনেক বেশি ধুলাবালু উড়ে বলে রোজ চুল পরিষ্কার করা উচিত। ঠান্ডা পানি দিয়েই চুল ধোয়ার কাজ সেরে ফেলতে হবে।

চুলের যত্নে কী করবেন?

রুক্ষ আবহাওয়ায় মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। এক কাপ গরম পানিতে পাঁচ থেকে ছয়টা রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন তা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন। এটি শ্যাম্পুর কাজ করে থাকে। চুল রং করা থাকলে এই মিশ্রণের ব্যবহারে অনেক সময় চুল রুক্ষ বোধ হতে পারে, এমন হলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া যেহেতু রোজ শ্যাম্পু করা হবে, তাই শ্যাম্পুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এরপর চুল ধুয়ে নিবিড় কন্ডিশনিং করুন।

চুল ঝলমলে ও কোমল করতে যা করবেন

একটি আস্ত পাকা কলা, ছোট আকারের তিনটি দেশি পেঁয়াজ ও এক টেবিল চামচ মধু বেটে একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর চুলের গোড়া এবং সম্পূর্ণ চুলে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। কিছুদিন ব্যবহারে চুল যেমন মোলায়েম হবে তেমনি গোড়াও হবে মজবুত।

খুশকির সমস্যা বেশি বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে জানান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাশেদ মোহাম্মদ খান। তিনি জানান, খুশকি একধরনের একজিমা। এর সংক্রমণে মাথার চামড়া উঠে যেতে পারে, অনেক সময় লালচে গুড়ি গুড়ি গোটা দেখা দেয়। চুলকালে এটি থেকে ঘা হয়ে যেতে পারে। এমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ অথবা মলম ব্যবহার করতে হবে।

আরো জানুনঃ

*শীতকালে চুলের যত্নে সাধারণ কিছু নিয়ম

*যে ৭ টি ভুলের কারণে আপনার অজান্তেই চুলের ক্ষতি হচ্ছে

*শীতে ছেলেদের চুলের যত্নে করণীয়

*শীতে স্কিনকেয়ার সমস্যার সমাধান

*শীতকালে চুল খুশকিরোধ করার সহজ টিপস

*শীতকালে চুলের যত্নে দারুণ টিপস